সিলেট জেলা শিল্পকলা পদক পাচ্ছেন শাবি শিক্ষক ড.জফির সেতু

প্রকাশিত: ৫:৩৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২১

শাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ

সৃজনশীল সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান রাখায় ‘জেলা শিল্পকলা একাডেমী পদক ২০১৯’ পাচ্ছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জফির সেতু। সিলেট ‘জেলা শিল্পকলা একাডেমী পদক২০১৯’ পদক প্রদানের লক্ষ্যে নিয়ম অনুযায়ী গঠিত বাছাই কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘সৃজনশীল সংস্কৃতি গবেষক’ ক্যাটাগরিতে তাকে মনোনীত করা হয়।
সিলেট জেলা শিল্পকলা কর্মকর্তা অসিত বরন দাশ গুপ্ত জানান, প্রতিবছর পাঁচটি ক্যাটাগরিতে এ পদক দেয়া হয়। এটির কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৩ সাল থেকে। সম্মাননা পদক ২০১৩ থেকে সর্বশেষ ২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট ২৯ জন ব্যক্তি ও একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনকে এখন পর্যন্ত পদক দেয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ‘সম্মাননা পদক ২০১৯’ প্রদানের আয়োজন করা হচ্ছে। তবে কোভিড-১৯ সময়কালে রাষ্ট্রীয় বিধি-নিষেধ মেনে আমাদের অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ প্রক্রিয়া চলমান। আশাকরি খুব শীঘ্রই মাননীয় মন্ত্রী এর উপস্থিতিতে আমরা এবারের মনোনীত পাঁচজনকে ‘জেলা শিল্পকলা একাডেমী পদক ২০১৯’ প্রদান করতে পারব। তাদের মধ্যে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জফির সেতু ‘সৃজনশীল সংস্কৃতি গবেষক’ পদে সম্মাননা পাবার জন্য মনোনীত হয়েছেন।
সম্মাননা পদকে মনোনীত ড. জফির সেতু জানান, জুরিবোর্ড আমাকে সৃজনশীল সংস্কৃতি গবেষণায় পদকের জন্য মনোনীত করেছেন, এই জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই। তাঁদের এবং শিল্পকলা একাডেমির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। কিন্তু আমি বিনীত ভাবেই বলতে চাই পুরস্কার বা সম্মাননা আমাকে কখনও টানে না। আমি কাজ করতে পছন্দ করি। কাজ করি নিজের দায় থেকে এবং আনন্দের জায়গা থেকে। কবিতা লেখা, গল্প-উপন্যাস বা অন্য ধরনের সৃষ্টিশীল সাহিত্য রচনা কিংবা গবেষণা কর্ম এগুলো আমার জীবন-যাপনেরই অংশ। এমনকি শিক্ষকতাও। আমি এসব খুব উপভোগ করি। আমি মনে করি যেদিন আমি এসব কাজে নিজেকে ব্যাপৃত রাখতে পারব না, সেদিন আমার মৃত্যুই হবে। তাই এসবের জন্য স্বীকৃতি পেলে বা না পেলে আমার কিছু যায় আসে না। আমি মনে করি কাজটাই আসল। কেউ কাজ করে যদি স্বীকৃতি না পায়, তাতেও ওই ব্যক্তি বা কাজের গুরুত্ব কমে যায় না। কিন্তু আমাদের সমাজে পদক-পুরস্কার কিংবা পদমর্যাদা দিয়ে ব্যক্তিকে মূল্যায়নের একটি ধারা তৈরি হয়েছে। এই জন্য কাজের চেয়ে পদক বা সম্মাননার গুরুত্ব বেশি। যাঁরা প্রকৃতই কাজ করতে চান, তাঁরা পুরস্কারের জন্য কাজ তো করেনই না, পুরস্কার তাঁদের কাজকে প্রভাবিতও করে না বলে আমার বিশ্বাস। কারণ এটা তাদের বেঁচে থাকার প্রক্রিয়া এবং মনুষ্যত্বের দায়। তবে পদক বা পুরস্কার সম্মাননীয়কে অনুপ্রাণিত করতেই পারে। এবছর আরও যাঁরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য শিল্পকলা একাডেমির সম্মাননা লাভ করেছেন, তাঁদের প্রতি শুভেচ্ছা জানাই।
জফির সেতু সিলেটে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বওে জম্ম গ্রহণ করেন। তিনি একাধারে কবি, আখ্যান-লেখক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক। এ যাবৎ তার প্রকাশীত গ্রন্থেও সংখ্যা ত্রিশটি। এছাড়াও তিনি একজন লোকসাহিত্য সংগ্রাহক, সংকলক ও সম্পাদক।