স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে নেয়া যাবে শাবিপ্রবির চতুর্থবর্ষ ও মাস্টার্সের ফাইনাল পরীক্ষা

প্রকাশিত: ৩:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২১

দেলোয়ার হোসেন, শাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ

করোনাভাইরাস প্রকোপে আটকে থাকা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীতে নিতে পারবে বিভাগগুলো। ইতিমধ্যে লোকপ্রশাসন বিভাগ সহ কয়েকটি বিভাগ শুধুমাত্র চতুর্থ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার রুটিন প্রকাশ করেছে।
উক্ত সময়গুলোতে শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দিতে প্রস্তুত থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার ও এর আইসোলেশন ইউনিট, ডাক্তার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
শনিবার (০৫ই জুন) এসব তথ্য নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক কবীর হোসেন।
তিনি জানেন, ‘যেহেতু সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি আছে তাই এ সময় শিক্ষার্থীদের মেডিকেল সহায়তা দিতে শাবিপ্রবির মেডিকেল সেন্টার, আইসোলেশন সেন্টার ও ডাক্তাররা সদা প্রস্তুত থাকবে। পরীক্ষা দিতে এসে কেউ যেন অসুস্থ হয়ে না যায় সে বিষয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে রাখা হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুজিবুর রহমান জানান, একাডেমীক কাউন্সিলে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের আটকে থাকা পরীক্ষা গুলো চাইলেই সশরীরে নিতে পারবে বিভাগ গুলো। ইতিমধ্যে কয়েকটি বিভাগ সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার উদ্যোগ নিয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।
তিনি জানান, ‘১ম থেকে ৩য় বর্ষের আটকে থাকা সেমিস্টার ফাইনাল গুলো অনলাইনে হবে। এটা একাডেমীক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত গত ২৭মে ১৬৫ তম একাডেমিক কাউন্সিলে নেয়া হয়। তবে বিভাগ গুলো চাইলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চতুর্থবর্ষ ও মাস্টার্সের পরীক্ষা গুলো সশরীরে নিতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে আমাদের মেডিকেল সেন্টার সার্বক্ষণিক মেডিকেল সাপোর্ট দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবে। আমাদের আইসোলেশন সেন্টার ও প্রস্তুত। শিক্ষার্থীদের সর্বাধিক মেডিকেল সাপোর্ট দিতে সব ধরণের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেয়া আছে। যেহেতু মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের সাথে আমাদের চুক্তি আছে তাই আমরা শিক্ষার্থীদের মেডিকেল সহায়তা প্রদানে ওই হাসপাতালের সহায়তাও নিতে পারবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘পূর্বে অনুষ্ঠিত পরীক্ষাগুলোর ফলাফল দ্রুত প্রকাশ করার ব্যাপারে শিক্ষকদের বলে দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলা ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ তাদের ফলাফল প্রকাশ করেছে। আশারাখা যায়, শীঘ্রই অন্য বিভাগ গুলো ফলাফল প্রকাশ করবে।’
উল্লেখ্য, গত ১৭ জানুয়ারি থেকে স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে হল খোলার আন্দোলনে গত ২২শে ফেব্রুয়ারি সকল পরীক্ষা স্থগিত করে শিক্ষামন্ত্রণালয়।
এরপর গত ২৭মে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬৫ তম একাডেমিক কাউন্সিল সভায় অনলাইনে প্রতিটি কোর্সে দুই ভাগে পরীক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে এই অনলাইনে পরীক্ষা পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষার মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ ‘ক্রিয়েটিভ অ্যাসেসম্যান্ট’ পদ্ধতিতে ও বাকি ৫০ শতাংশ নম্বর ভাইবার মাধ্যমে নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।