উখিয়ায় আবারও আলোচনায় কিশোর গ্যাং

প্রকাশিত: ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩, ২০২১

হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া :

ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। উখিয়া-কোটবাজারসহ পুরো উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে চুরি, ছিনতাই, মাদকসহ নানা অপরাধেধ জড়িয়ে পড়ছে।

শুধু তাই নয়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে এক গ্রুপের সদস্যরা অন্য গ্রুপের সদস্যদের ছুরিকাঘাত করতেও দ্বিধাবোধ করছে না। পারিবারিক শিক্ষা, করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ দিন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে কিশোররা এমন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

জানা গেছে, গত ১৭ মে রত্না পালং ইউনিয়নের সাদরিকাটা গ্রামের ফরিদুল আলমের ছেলে তানভির হোসাইনকে প্রকাশ্য দিবালোকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ছুরিকাঘাত করে মারাত্নকভাবে আহত করে। ষোলো দিন পার হলেও এখনো তানভির সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসতে পারেনি। প্রথম অপারেশনের পর দ্বিতীয় অপারেশন অপেক্ষায় চিকিৎসাধীন আছেন ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতাল কক্সবাজারে।

তার পরিবার জানিয়েছেন, দক্ষিণ রত্না তেলী পাড়া গ্রামের শফিকুর রহমানের ছেলে জামাল উদ্দিন, একই গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে রিফাত মাহমুদ, জালিয়া পালং ইউনিয়নের পূর্ব পাইন্যাশিয়া চরপাড়া গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম, একই গ্রামের তোফাইল আহমদের ছেলে মোহাম্মদ ইব্রাহিমসহ ৭/৮ জন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সেদিন কোটবাজার পেট্রোল পাম্পের পাশে পানের দোকানের সামনে তাকে ছুরিকাঘাত করে মারাত্নকভাবে জখম করে। তানভির হোসাইন আহত হওয়ার পর উখিয়ায় কিশোর গ্যাং কালচার আলোচনায় আসে।

এরপর কোটবাজারের বাইরেও মরিচ্যা, উখিয়া, কুতুপালং, বালুখালী ও থাইংখালীসহ পুরো উখিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে কিশোর গ্যাংয়ের একাধিক গ্রুপ গড়ে উঠে। বর্তমানে ৩০ থেকে ৩২টি কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্য সক্রিয় রয়েছে। করোনাকালেও তারা মারামারি, মাদক ইয়াবা ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ পরিচালনা করছে।

উখিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে উখিয়ার আকাশে বাতাসে চাউর হয়ে ফে বু তে তোলপাড় চলছে কথিত ” কিশোর গ্যাং” জ্বর।এসব দমনে পুলিশ কি ঘরে ঘরে গিয়ে টং বেধে বসে থাকবে।

তাহলে পিতা- মাতা, অহংকারী লাট বাহাদুর অভিভাবকদের কাজ কি।শুধু কি কুকুরের মত বাচ্চার জম্ম দেওয়া! না আরও দায় দায়িত্ব আছে। উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিক আজাদ বলেন,
হঠাৎ আলোচনায় কিশোর গ্যাং।

উখিয়ার সর্বত্রে বেড়েছে কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রব। বিশেষ করে রাজাপালং জাদিমুরা, হিজলিয়া, হাসপাতাল সড়কে এদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০-৩০জন কিশোর গ্যাং সদস্যদের মধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মচারি, গণ্যমান্য ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজন ও সন্তান রয়েছে। এসব অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ আপনার আত্মীয় স্বজন এবং সন্তানদের নিয়ন্ত্রণ করার এখনো সময় রয়েছে। নচেৎ ভবিষ্যত খারাপের দিকে যাবে। আমরাও নামসহ মুখোশ উন্মোচন করতে বাধ্য হবো। উখিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সাঈদ মোহাম্মদ আনোয়ার বলেন, অভিভাবকদের সচেতনতায় পারে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের অপরাধ জগত থেকে ফিরিয়ে আনতে। আগেকার সময়ে আমরা বড়দের দেখলে পালিয়ে যেতাম। এখনকার সময়ের কিশোররা বড়দের দেখে পালানোর তো দূরের কথা সিগারেট হাতে নিয়ে ঘুরে। সমাজকে বদলাতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে অভিভাবকসহ আমরা যারা বড় আছি তাদেরকে।

উখিয়া প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় অনেকেই লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে এনজিওতে চাকরির সুবাদে হাতে হাজারো টাকা। তাছাড়া সীমান্ত উপজেলা হওয়ায় মরণ নেশা ইয়াবার ছোবলে কিশোর-তরুণেরা অস্বাভাবিক জীবন-যাপন করছে।

এ ছাড়াও এনজিওদের দেখা-দেখি নারী-পুরুষের অবাধ মেলা-মেশায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে আগামীর প্রজন্ম।যা অভিভাবকদের অসহায়ত্বের কারণ।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহমেদ সন্জুর মোরশেদ রাজাপালং ইউনিয়নের জাদিমুড়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে মাদক,বাল্যবিবাহ,কিশোর গ্যাং, মানবপাচার, জঙ্গীবাদ বিষয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য রেখেছেন। তিনি উখিয়াকে মাদক,বাল্যবিবাহ, কিশোর গ্যাং,মানবপাচার ও জঙ্গীবাদমুক্ত করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।